Business is booming.

জোড়া কালবৈশাখীতে নেই প্রকৃতির কোনও অশনি সংকেত

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: জোড়া কালবৈশাখীতে প্রকৃতির কোনও অশনি সংকেত দেখছে না হাওয়া অফিস। এক সপ্তাহের মধ্যে দু’বার জোড়া কালবৈশাখীতে লন্ডভন্ড হয়েছে মহানগর। এমন জোড়া কালবৈশাখী সব সময় হয় না বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তবে এই জোড়া কালবৈশাখী স্বাভাবিক নিয়মে হলেও এ ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক কোনও ভয়ের কারণ নেই বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস৷

গত ১৭ এপ্রিল, সন্ধ্যা সাতটা ৪২মি এবং সাতটা ৫৫মি-এর মধ্যে দু’টি ঝড় আছড়ে পড়ে কলকাতায়। এই দুই ঝড়ের গতিবেগ ছিল যথাক্রমে ৮৪ ও ৯৪ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল ১৩ জনের। গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যা সাতটা ৫০মি এবং রাত্য আটটা ০৫মি-এ ফের হাজির হয় জোড়া কালবৈশাখী। এই দুই ঝড়ের গতিবেগ ছিল যথাক্রমে প্রতি ঘণ্টায় ৪৭ এবং ৮০ কিলোমিটার৷ প্রাণঘাতী না হলেও এই দুই ঝড়ে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।

এক সপ্তাহের মধ্যে দুই বার জোড়া কালবৈশাখীর কারণে সাধারণ মানুষের আশঙ্কা বেড়ে গিয়েছে৷ প্রশ্ন উঠছে, প্রাকৃতিক কোন কারণে জোড়া ঝড়ের সম্মুখীন হতে হচ্ছে হাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে এমন জোড়া কালবৈশাখী দুই একটি থাকলেও, এ ভাবে পর পর দেখা মেলেনি৷ ২০১৭-র এপ্রিলের আগে ২০১৩-র এপ্রিলে একটি জোড়া কালবৈশাখী হয়েছিল৷ তবে, অভয় দিচ্ছে হাওয়া অফিস।

আলিপুর আবহাওয়ায় দফতরের সহ অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওই দুই বেশি গতির ঝড়ের অন্দরে লুকিয়ে রয়েছে একসঙ্গে আরও ছয় থেকে সাতটি ঝড়। ওই সব ঝড়ের গতিবেগ ৪০ এর উপরে ছিল। সবগুলো শর্ত মানেনি তাই কালবৈশাখীর তকমা পেল না। যে দুটি ঝড় শর্ত পূরণ করল, সেগুলি কালবৈশাখীর তকমা পেল। এতে ভয়ের কোনও কারণ নেই৷ প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই হয়েছ জোড়া কালবৈশাখী।”

একই সঙ্গে তাঁর ব্যখ্যা, “এই ঝড় তখনই হয় যখন ধনুকের মতো আকার ধারণ করে মেঘপুঞ্জ। ধনুক থেকে বের হওয়া বাণ সব থেকে কাছে থাকা স্থানের উপর আছড়ে পড়ে। আছড়ে পড়ার স্থানের মেঘপুঞ্জকেও সঙ্গে নেয়৷ হয় জোড়া কালবৈশাখী। আর এটাই হয়েছে৷’’

সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “১৭ তারিখের জোড়া কালবৈশাখীতেও এমন তির-ধনুক আকৃতির মেঘ ছিল যা ক্রমে এগিয়ে এসেছে কলকাতার দিকে। এগিয়ে আসার পথে আছড়ে পড়ার সময় সামনে ছিল কলকাতা। আর সেই সময় কলকাতার উপরেও গরমের জন্য এমনিতেই একটি মেঘপুঞ্জ তৈরি হয়ে ছিল। জোড়া মেঘের ধনুক থেকে বেরনো বাণ আছড়ে পড়েছে কলকাতায়। যে কারণে জোড়া কালবৈশাখী।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “এ বারের ঝড়ের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা দেখা দিয়েছে৷ ঝাড়খণ্ড, বোকারোতে ধনুকের মেঘপুঞ্জ জন্ম নেওয়ার পর ঝড় আছড়ে পড়ার মুহূর্তে ৪০০ মিটার দূরে ছিল কলকাতা। আর ওই সময় কলকাতার ঠিক ১১০ মিটার উপরে একটি মেঘপুঞ্জ ছিল। জোড়া মেঘের সংঘর্ষে ধনুক আকৃতির মেঘ থেকে জোড়া কালবৈশাখী হয়েছে কলকাতায়।”

শুধুমাত্র এ সবও নয়৷ সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই জোড়া মেঘ থাকলেও এমন জোড়া কালবৈশাখী হয়তো হতো না, যদি অন্য স্থান থেকে এগিয়ে আসা মেঘপুঞ্জ ধনুকের আকৃতির না হত।” তাঁর ব্যাখ্যা, “সচরাচর না ঘটলেও জোড়া কালবৈশাখী কোনও অস্বাভাবিক বিষয় নয়। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই হয়েছে এই ঝড়। কোনও ভয় নেই।”

©Kolkata24x7 এই নিউজ পোর্টাল থেকে প্রতিবেদন নকল করা দন্ডনীয় অপরাধ৷ প্রতিবেদন ‘নকল’ করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে
—-

—-

Loading...
You might also like