Business is booming.

ভোটের মুখে সেতু তৈরির কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: গ্রাম বাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে পঞ্চায়েত ভোটের মুখে তড়িঘড়ি করে সেতু তৈরির কাজ শুরু হল৷ কিন্তু সেতু তৈরির কাজ সাধারণ মানুষ আটকে দেয়। ‘নিম্ন মানের কাজ হচ্ছে’ এই অভিযোগ তুলে সেতু তৈরির কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরাই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হল বাঁকুড়ার সারেঙ্গার গড়গড়্যা গ্রাম।

গ্রামবাসীদের সম্মিলীত অভিযোগ, ওই সেতু তৈরিতে নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেতু তৈরির কাজও ঠিক হচ্ছেনা বলে তাদের অভিযোগ। কাজ শুরুর পর থেকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বিষয়টি বার বার জানালেও কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হলেন গ্রামবাসীরা।

সারেঙ্গার গড়গড়্যা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আগয়া গ্রামের কাদা খালের উপর সেতু তৈরির দাবি দীর্ঘদিনের। প্রতিবছর বর্ষার সময় এই খালের জল রাস্তার উপর উঠে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে আগয়া ছাড়াও সীতারামপুর, চিংড়া, ডাংরা পাড়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষ সহ অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী চরম সমস্যায় পড়েন। অনেক সময় ওই পথে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এছাড়াও ওই খালের জলে প্রতিবছর নিয়ম করে নষ্ট হয় কয়েকশো বিঘা জমির ধান। ফলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ওই খালের উপর ব্রিজ তৈরিতে উদ্যোগী হয় প্রশাসন। কিছুদিন আগে সেতু তৈরির কাজ শুরু হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের সোজাসুজি রাস্তার উপর সেতু না করে যে ভাবে সেতু তৈরি করা হচ্ছে তাতে খালের জল পাশের জমিতে ঢুকে যাবে। ফলে ফসলের ক্ষতি আরও বেশি হবে। একই সঙ্গে সেতু তৈরির কাজও নিম্নমানের হওয়ার অভিযোগ তো আছেই।

স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তিপদ পাত্র, স্বপন সিংহ, দিলীপ কুমার পাত্রের অভিযোগ, সেতু তৈরিতে নিম্ন মানের কাজ হচ্ছে। সিমেন্টের তুলনায় বালির পরিমান অনেক বেশি দেওয়া হচ্ছে। ফলে কয়েকটা বর্ষার পরেই ওই সেতু ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা তারা করছেন বলে জানান। এমনকি সেতু তৈরির পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে খালের জল জমিতে গিয়ে চাষের ক্ষতির আশঙ্কাও তারা করছেন বলে জানায়।

তবে সারেঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির ‘বিদায়ী’ সভাপতি ধীরেন্দ্রনাথ ঘোষকে এই বিষয়ে টেলিফোনে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, এলাকাবাসীর দাবি মেনে ওখানে সেতু তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা হয়ে গেলে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে৷

আবার খালের জলে যাতে ধানের ক্ষতি না হয় সে জন্য মজে যাওয়া খালেরও সংস্কার করা হয়েছে। আবার ওখানের মানুষের দাবি মেনে গাড়োয়াল ও কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আর ওখানে রাস্তায় বাঁক থাকার কারণে সেতু হয়ত একটু বেঁকেছে। সে জন্য তো তারা কাজ না আটকে প্রশাসনকে জানাতে পারেন৷ তারা সমস্যার সমাধান করবেন। আমরা এলাকাবাসীর কথা ভেবেই কাজ করছি। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

©Kolkata24x7 এই নিউজ পোর্টাল থেকে প্রতিবেদন নকল করা দন্ডনীয় অপরাধ৷ প্রতিবেদন ‘নকল’ করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে
—-

—-

Loading...
You might also like