Business is booming.

অ্যালোভেরার এই গুণগুলো কি জানেন?

(প্রিয়.কম) অ্যালোভেরা শব্দটির সঙ্গে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত। এই গাছটিও আমাদের দেশে খুবই সহজলভ্য। আজ আমি এই পরিচিত গাছটি সম্পর্কে কিছু কথা জানাব, যা হয়তো অনেকেরই অজানা। এই গাছটির গুণাগুণ বলে শেষ করা যাবে না।

অ্যালোভেরা গাছকে অনেকে ‘বিস্ময়কর গাছ’ বলে থাকে। আসুন সেই গাছটির কিছু কার্যকারিতা জেনে নিই।

রূপচর্চা: রূপচর্চার এক অনন্য উপাদান অ্যালোভেরা। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এন্টি এজিং হিসেবে কাজ করে, ট্যান দূর করে, সানবার্ন থেকে রক্ষা করে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এট মেকঅাপ রিমুভার হিসেবে কাজ করে, ত্বকের কোনো রকম ক্ষতি ছাড়া। 

শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা ফেরাতে: এক চা চামচ অ্যালোভেরা একটু হলুদ,অাধা চা চামচ মধু, এক চা চামচ দুধ,আর পরিমাণমতো গোলাপজল (পানিও ব্যবহার করা যাবে) নিয়ে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। কাজে দেবে বলে আশা করি।

স্ক্রাব: অাধা কাপ অ্যালোভেরা, এক চাপ চিনি, দুই চা চামচ লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে স্ক্রাব হিসেবে মুখে বা পুরো শরীরে ব্যবহার করা যাবে। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে যারা অ্যালোভেরা ব্যবহার করেছেন, তাদের ত্বক অন্যদের তুলনায় অনেক সতেজ ও প্রাণবন্ত।

চুলের পরিচর্চা: চুল নিয়ে সবাই কম-বেশি চিন্তিত। কারো চুল পড়ে যাচ্ছে, চুল গজাচ্ছে না, মাথায় টাক বের হয়ে যাচ্ছে, চুল রুক্ষ হয়ে গেছে। এমন নানা সমস্যা রয়েছে। অ্যালোভেরা এই সমস্যার অনেক সমাধানই দিতে পারে। অ্যালোভেরা খুব ভালো কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। এটি চুলকে নরম, সিল্কি করে, চুলের বৃদ্ধি নিশ্চিত করে, খুশকি দূর করে। নিয়মিত অ্যালোভেরা ব্যবহারে চুল হয় ঝলমলে।

প্যাক: নারিকেল তেল দুই চা চামচ, ভিটামিন ই ক্যাপসুল একটা, পরিমাণমতো এলোভেরা একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে দিতে হবে। এটা সপ্তাহে অন্তত একবার দিতে হবে।

ওষুধ হিসেবে ব্যবহার: অ্যালোভেরার ঔষধি গুণাগুণ বলে শেষ করা যাবে না। প্রাচীন যুগ থেকে অ্যালোভেরা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যেকোনো ঘা শুকাতে এটি খুব ভালো কাজ করে। অ্যালোভেরার ক্যাপসুল বা তরল অ্যালোভেরা খেলে ১০ দিনের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য সেরে যাবে। অতি বেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক, চুল, এমনকি পুরো শরীরকে রক্ষা করে। রেডিয়েশন থেরাপির পর ত্বককে আবার আগের মতো উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত হতে সাহায্য করে এই উপাদানটি।

অ্যালোভেরাতে প্রচুর এন্টি-অক্সিডেন্ট আছে, যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে বাধা দিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অ্যালোভেরা জেল টুথপেস্ট হিসেবেও ব্যবহার হয়, যা বাজারে প্রচলিত টুথপেস্টের তুলনায় অনেক ভালো।

নিয়মিত অ্যালোভেরার ব্যবহার দাঁতের প্লাক দূর করে, দাঁতকে সুস্থ রাখে। এমনকি মুখের ভেতর যদি কোনো আলসার হয়, তা-ও নিয়মিত অ্যালোভেরার ব্যবহারে ঠিক হয়ে যাবে।

ডায়াবেটিস রোগ বর্তমানে অনেক চিন্তার বিষয়। অনেকে সুগার লেভেলটাকেও ঠিক রাখতে পারে না। কিন্তু নিয়মিত অ্যালোভেরা সেবন রক্তের গ্লুকোজ লেভেলকে ঠিক রাখে।

স্বাস্থ্যচর্চা: ওজন বৃদ্ধি নিয়ে সবাই কম-বেশি চিন্তিত। কারো ওজন বাড়ছে তো কমাতে পারছে না। স্বাস্থ্যের এই দিক থেকেও অ্যালোভেরা পিছিয়ে নেই।

অ্যালোভেরার গুণাগুণের জাদু এখানেও ছড়ানো আছে। অ্যালোভেরার উপস্থিতি খাবারের মানকে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যায়। শুধু স্বাস্থ্যকেই কমায় না, বরং সাথে সাথে হজম শক্তি বাড়ায়, পানির শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়।

অ্যালোভেরা জুস: পরিমাণমতো অ্যালোভেরা, পছন্দমতো ফল (কলা, আপেল, আনার, ড্রাগন ফল ইত্যাদি), দুই চা চামচ মধু, এক চা চামচ লেবু ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে খেতে হবে। 

প্রিয় লাইফ/আজহার

Loading...
You might also like