Business is booming.

ত্বকের রং বুঝে সাজুন

সাজসজ্জার ক্ষেত্রে ত্বকের ‘আন্ডাটোন’য়ের কথা শুনে থাকবেন। ত্বকের বর্ণ দুই
ধরনের হয়। একটা হচ্ছে চামড়ার উপরের রং আরেকটা হচ্ছে ভেতরের বা ‘আন্ডারটোন’।

আর ত্বকের এই ‘অভ্যন্তরীণ’ রংয়ের কারণেই লিপস্টিক বা নেইলপলিশের রংয়ের সঙ্গে
বিরোধ ঘটাতে পারে।

সাজসজ্জাবিষয় একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়,
‘আন্ডারটোন’ জানা থাকলে কোন রংয়ের ‘বিবি’ বা ‘সিসি’ ক্রিম অথবা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন
সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। পাশপাশি ব্লাশ, আই শ্যাডো এবং পোশাকের রং নির্বাচনও
সঠিক হয়।

ত্বকের বর্ণ

চামড়ার উপরের রং উজ্জ্বল, শ্যামলা না চাপা সে সম্পর্কে নিশ্চয়ই সবারই ধারণা
আছে। ত্বকের রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির পার্থক্যের কারণে এই ভিন্নতা দেখা দেয়। চোয়ালের
অংশে খেয়াল করলে ত্বকের প্রকৃত ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। কারণ এই অংশের রং খুব
একটা পাল্টায় না।

যদি হয় হালকা- অর্থাৎ গায়ের রং হালকা
সঙ্গে হলদে বা বাদামি ভাব রয়েছে।

যদি হয় মাঝারি– অর্থাৎ গায়ের রং মাঝামাঝি
হতে পারে হালকা জলপাই রংয়ের মিশেল রয়েছে।

যদি হয় গাঢ়– অর্থাৎ গায়ের রং চাপা
বা কালচে ধরনের।

‘আন্ডারটোন’

ত্বকের উপরিভাগ দূষণ ও রোদের কারণে পরিবর্তিত হলেও অভ্যন্তরীণ রংয়ের কোনো পরিবর্তন
হয় না। তাই ত্বকের উপরিভাগের রং বিবেচনা না করে বরং ভেতরের রং সম্পর্কে ধারণা নিয়ে
প্রসাধনী কিনতে পারেন।

ত্বকের অভ্যন্তরীণ রং
তিন রকমের

ঠাণ্ডা- ত্বকে গোলাপি, লালচে
ও নীলচেভাব থাকলে শীতলবর্ণের।

উষ্ণ- হলদে, পিচ বা সোনালিভাব
থাকলে উষ্ণবর্ণের।

সাধারণ- জলপাই বা উপরের সকল
রংয়ের মিশ্রণ থাকলে সাধারণ বর্ণের।

ত্বকের ‘আন্ডারটোন’
যাচাই করার পন্থা

বিভিন্ন উপায়ের মধ্যে যেকোনো একটি অনুসরণ করলেই হয়।

শিরা বা রগ যাচাই: উজ্জ্বল সূর্যালোকে
দাঁড়িয়ে হাতের কব্জির অংশের শিরার দিকে খেয়াল করুন। শিরার রং যদি নীলচে বা বেগুনি বর্ণের
হয়ে থাকে তাহলে আপনার ‘আন্ডারটোন’ শীতলধর্মী। আর যদি সবুজাভ দেখায় তাহলে উষ্ণধর্মী।
শিরায় যদি এই দুই রংয়ের সংমিশ্রণ দেখা যায় তাহলে তা স্বাভাবিক ‘আন্ডারটোন’ নির্দেশ
করে।

রোদপোড়া নাকি বাদামি
হওয়া:
মনে রাখবেন রোদপোড়া আর ‘ট্যান’ হওয়া এক কথা নয়। দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে চামড়ায়
পোড়া বা কালচেভাব আসে নাকি বাদামি বা ‘ট্যান’ হয়ে যায়।

ত্বকে যদি কালচেভাব আসে এবং দেখতে ব্রোঞ্জ দেবীর মতো লাগে তাহলে আপনি উষ্ণ
বর্ণের অধিকারি। আর যদি ত্বক লালচে হয়ে আসে তাহলে বুঝতে হবে গায়ের রং শীতলধর্মী।

কোন রং ভালো মানায়

নীল, গোলাপি ও সবুজাভ রং যদি ভালো মানায় তাহলে আপনার গায়ের রং ঠাণ্ডা প্রকৃতির।
উজ্জ্বল মেটে রং যেমন- পিচ, লাল, হলুদ, কমলা এবং জলপাই সবুজ যদি ভালো মানায় তাহলে উজ্জ্বল
রং নির্দেশ করে। আর যদি উপরের দুই ধরনের রং ভালো মানায় তাহলে আপনি স্বাভাবিক রংয়ের
অধিকারী।  

সাদা পরীক্ষা

মুখের সম্পূর্ণ মেইকআপ পরিষ্কার করে নিন। একটি সাদা কাগজ ও একটি ঘিয়ে রংয়ের
কাগজ মুখের বিপরীত দিকে ধরুন। যদি সাদা রংয়ে উজ্জ্বল লাগে তাহলে সেটা ত্বকের ঠাণ্ডা
রং এবং ঘিয়ে রংয়ে উজ্জ্বল লাগলে তা ত্বকের উষ্ণ রং নির্দেশ করে।

সোনালি নাকি রুপালি
গয়না

ঠাণ্ডা বর্ণের অধিকারিদের রুপালি গহনা এবং উষ্ণ বর্ণের অধিকারিদের সোনালি গয়নাতে
বেশি ভালো লাগে। ত্বকের রংয়ের ধরন জানতে নিজের গায়ে এই দুই ধরনের গয়না ধরে পরীক্ষা
করতে পারেন।

আশাকরা যায় ত্বকের উপরিভাগ ও অভ্যন্তরীণ রং সম্পর্কে এখন ধারণা নিতে পারবেন।
আর এই অনুযায়ী মেইকআপ, পোশাক ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের সমন্বয়ে সাজ নিলে দেখতে অনেক
বেশি মানানসই ও সুন্দর লাগবে।

 

আরও
পড়ুন

ত্বক উপযোগী ফেইসপ্যাক
 

মলিন ত্বক ঝলমলে করতে
 

সুন্দর মুখের জন্য
 

Loading...
You might also like