Business is booming.

যৌন হেনস্তা নিয়ে যত কথা

অতি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মিডিয়াতে আলোড়িত খবর হলো—বিখ্যাত অভিনেতা, কমেডিয়ান এবং আমার অত্যন্ত প্রিয়, বিল কসবিকে ৩০-৪০ বছর আগে যৌন হেনস্তার জন্য দোষী হিসেব কোর্ট রায় দিয়েছে। বেশ ক’বছর ধরেই মামলাটা চলছিল অতএব এই বৃদ্ধ বয়সে কসবিকে হয়তো জেলে যেতে হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং নিজস্ব প্রোডাকশান নিয়ে কাজ করতেন অনেক বছর ধরে তার বিল কসবি শো টেলিভিশন চ্যানেলে চলেছে অনেক মুভিতে অভিনয় করেছেন সিনেমা জগতে যা হয় তা-ই হয়েছে বেশ কবছর ধরে অনেক নারীই যৌন হেনস্তার অভিযোগ করছিল এত বছর আগের ঘটনা কেমন করে যেন কোর্টে প্রমাণও করে ফেলেছে এখন সাজা দেওয়ার অপেক্ষায়  

প্রায় এক বছর আগে ‘হ্যাসট্যাগ মি-টু’ (# me too) মুভমেন্ট এবং সেই সঙ্গে সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে এই যৌন হেনস্তার বিষয়টি টপ খবর হিসেবে মিডিয়া জগৎ ব্যবহার করে আসছে। এরই মাঝে হলিউড মোগল, হারভি উইনস্টেইনের বিরুদ্ধে প্রায় কয়েক ডজন অভিনেত্রী অভিযোগ করে একটা লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়ে দিল বেচারা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেল টাইম ম্যাগাজিন যৌন হেনস্তা নিয়ে সাইলেন্স ব্রেকার টাইটেল দিয়ে কভার স্টোরি করেছিল

তারপর ডোমিনো ইফেক্ট শুরু হয়ে গেল কত জাঁদরেল, প্রতিষ্ঠিত এবং ভালো ভালো—সর্বোপরি আমার প্রিয় খবর পাঠক, অভিনেতা, সিনেটর, কংগ্রেসম্যান থেকে শুরু করে, নামী-দামি হলেই অভিযুক্ত হতে শুরু করে এই যৌন হেনস্তার অভিযোগে চাকরি বা পদ—দুটোই হারাচ্ছে সবাই। খোদ প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত অভিযুক্ত। অনেক ক্ষেত্রে, মুখ বন্ধ রাখার জন্য মিলিয়ন ডলারের  লেনদেন হচ্ছেবর্তমান প্রেসিডেন্টও তা-ই করেছে তারপরও মামলা হয়েছে

নির্বাচনকালে এই যৌন হেনস্তার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত অটনিক হিসেবে কাজ করে থাকে যেমন—মিসিসিপির পাশের স্টেট, রেড স্টেট (রিপাবলিকান) হিসেবে পরিচিত আলাবামাতে সিনেট বাই ইলেকশনে ডেমোক্রেট প্রার্থীর কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে হলেও রিপাবলিকান প্রার্থী হেরে গেছে। হারু প্রার্থী ৫০ বছর আগে হাই স্কুল ছাত্রী যৌন হেনস্তার অভিযোগে অভিযুক্ত। ফলাফলের পরদিনই, ‘ফ্রম রেড টু ব্লু ই অ্যালাবামা’ নামে লোকাল পত্রিকায় ছোট্ট একটি কলাম লিখেছিলাম। এই লেখাটার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে পাঠকদের জন্য সেই লেখাটি তুলে ধরছি।

[From red to blue in Alabama 

‘The Commercial Dispatch’, Columbus, MS December 15, 2017

In Hinduism, more than one billion people worship not only God but also the goddess Durga. The Hindu believe she is the protective mother of the universe, who can destroy all evil and bring peace and harmony in the universe.  

Every year, everywhere in the world the Hindu people worship this female form of supreme being. Indeed, it’s a special respect for women. However, in practice, sexual misconduct is prevalent to some extent in every religion, in every country, developed or undeveloped. 

Who could have thought a senate seat in Alabama would change from red to blue? But it happened just this week. It is the win for silence breakers. It is the win for the #metoo movement. It is the win for four women I live with. 

 Democracy is really wonderful, especially when it takes corrective action.] 

বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো তাতে করে ‘সাধু সাবধান’ হয়ে যাবে। সমাজ চায় মিল-মহব্বতের মাধ্যমে ছেলে-মেয়ের সম্পর্ক গড়ে উঠুক মহিলা-পুরুষের মাঝে কোনো অনৈতিক সম্পর্ক নয় খুন-খারাবি নয় হুমায়ূন ভাই মামলা-মোকদ্দমা এবং খুন-খারাবি ছাড়াই আরেকটি সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন মোদ্দকথা, সম্পর্ক উন্নয়নে জোর-জবরদস্তি একেবারেই নয়

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হেনস্তার ওপর ফ্যাকাল্টি, স্টাফ—সবাইকে বাধ্যতামূলক অনলাইনে কুইজ দিতে হয় পাস করার সার্টিফিকেট জমা দিতে হয় মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছি কোনো স্টুডেন্ট যদি এতটুকু অভিযোগ আনে, সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত কমিটি, প্রমাণ পেলে চাকরি নট এমনকি পড়ানোর ব্যাপারেও ছাত্রছাত্রীদের ইভালুয়েশনকে সিরিয়াসলি দেখা হয়

যৌন হেনস্তার চূড়ান্ত রূপকে বলা যেতে পারে ধর্ষণ। আমার কথা, ধর্ষণ আর খুনের মধ্যে খুব বেশি একটা ফারাক নেই। খুনের জন্য যেমন শাস্তি, ধর্ষণের জন্যও শাস্তি থাকতে হবে বিচারকরাই ঠিক করবে কতটুকু শাস্তি ক্ষেত্র বিশেষে যাবজ্জীবনও হতে পারে ভারতের বিচারব্যবস্থায় পরিবর্তনও লক্ষ করা যাচ্ছে

সম্প্রতি ভারতে ১২ বছরের কম বয়সীদের ধর্ষণ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান করা হয়েছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে যাবজ্জীবনও হচ্ছে যেমন—তথাকথিত এক গুরুর যাবজ্জীবন শাস্তি হয়েছে।

তুলনামূলকভাবে আমাদের এশিয়ার দেশগুলোতে ধর্ষণের ঘটনা কমই বলা যায় সাউথ আফ্রিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে উঁচুতে রয়েছে উন্নত দেশগুলোতে সমাজব্যবস্থার কারণেই হোক, ধর্ষণের হার বেশি তবে যুক্তরাষ্ট্রে আউটডোরের চেয়ে ইনডোরে ধর্ষণ ঘটনাই বেশি ঘটে থাকে আবার অনেক দেশই আছে, যেখানে ধর্ষণ নেই বললেই চলে পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, এমনকি ধর্মীয় মূল্যবোধ বৃদ্ধির মাধ্যমে ধর্ষণ ও ধর্ষকহীন সমাজ গড়ে তোলা অসম্ভব নয় 

[প্রকাশিত লেখা ও মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রিয়.কম লেখকের মতাদর্শ ও লেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত মতামতের সঙ্গে প্রিয়.কমের সম্পাদকীয় নীতির মিল না-ও থাকতে পারে।] 

Loading...
You might also like