Business is booming.

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি নিরাপত্তা পরিষদের

(ইউএনবি) বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ তৎপরতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে মিয়ানমারের ওপর কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানায়নি দলটির সদস্যরা।

সফররত প্রতিনিধি দলের প্রধান গুস্তাভো আদলফো মেজা-চুয়াদা জানান, তিনি ও তার দলের সদস্যরা এ ব্যাপারে (রোহিঙ্গা সমস্যা) যথেষ্ট অবগত ও সমাধানে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালিয়ে যাবেন।

‘আমি মনে করি, শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করে এই শরণার্থী সংকট প্রত্যক্ষ করেছি এবং কিছু পরিবারের করুণ অবস্থা দেখেছি’, বলেন গুস্তাভো।

জাতিসংঘের নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধি ক্যারেন পিয়ার্স বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারকে সহযোগিতা করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার করার কারণেই তারা রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত কুয়েতের স্থায়ী প্রতিনিধি মনসুর আয়্যাদ আল-ওতাইবি বলেন, ‘পরিষদ খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান করবে এবং কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে, এমনটা আশা করা উচিত হবে না। কারণ আমি মনে করি না, পরিষদ যেকোনো সময় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মতো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

আশা করছি পরিস্থিতি আর খারাপ হবে না। জাতিসংঘ ইতোমধ্যে মিয়ানমারে বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি তার ভূমিকা পালন করবেন এবং সমস্যাটি নিয়ে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।’

রোহিঙ্গা সমস্যাকে অনেক ‘জটিল’ বিষয় আখ্যায়িত করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের এ প্রতিনিধি দলটি বলছে, ‘এ সমস্যার কোনো সহজ সমাধান নেই।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ওই প্রতিনিধি দলের এক সদস্য সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা খুবই জটিল বিষয়। নিরাপত্তা পরিষদে (এই বিষয়ের ওপর) আমরা একসাথে কাজ করে যাচ্ছি।’

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আগুন লাগানো খুব সহজ, কিন্তু নেভানো অনেক কঠিন।

আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি যে, এই সমস্যার সমাধান অনেক কঠিন। এখন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরাও এই সমস্যার গভীরতা বুঝতে পেরেছেন।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে প্রতিনিধি দলটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে তারা বুঝতে পেরেছেন যে, এই সমস্যার উৎপত্তি ও সমাধান মিয়ানমারের হাতেই রয়েছে।

উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলটির ক্যাম্প পরিদর্শনকালে অনেককেই প্ল্যাকার্ড ধরে থাকতে দেখা যায়। ওই সব প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিলে ‘আমরা ন্যায় বিচার চাই, জাতিংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিনিধিদের স্বাগতম, আমরা রোহিঙ্গা, বাঙালি নই’।

এর আগে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলটি কুতুপালংয়ের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং ক্যাম্পের বাসিন্দাদের কাছে রাখাইনের নৃশংসতার কথা শুনেন। এ ছাড়াও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অবস্থান নেওয়অ রোহিঙ্গাদের সাথেও কথা বলেছেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল।

কুতুপালং পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলটি সাংবাদিকদের জানান, তারা এ পাশের (বাংলাদেশ) সমস্যা প্রত্যক্ষ করেছেন। পরবর্তী সময়ে ওই পাশের (মিয়ানমার) সমস্যা প্রত্যক্ষ করার পর চূড়ান্ত মতামত জানাবেন।

প্রিয় সংবাদ/আজহার

Loading...
You might also like