Business is booming.

ভোটের আগে গাজীপুরের এসপি হারুনকে প্রত্যাহারের দাবি বিএনপির

রোববার
টঙ্গীতে বিএনপির কার্যালয়ে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

একই
দিন ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও
পুলিশ সুপার হারুনকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

দুই
বছর আগে ইউপি নির্বাচনের সময় গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনকে সাময়িত প্রত্যাহার করা
হয়েছিল।

১৫ মে
অনুষ্ঠেয়  সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেও
একই দাবি তুলে রিজভী বলেন, “গাজীপুরের
পুলিশ এখন ভয়ঙ্কর আতঙ্কের নাম। এই আতঙ্কের মহানায়ক হচ্ছেন এসপি হারুন।”

খন্দকার
মোশাররফ বলেন, “তিনি (হারুন) প্রশ্নবিদ্ধ, বিতর্কিত। বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে
একটি দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগে এই এসপিকে ওই নির্বাচনের সময় সাময়িকভাবে
গাজীপুর থেকে প্রত্যাহার করেছিল নির্বাচন কমিশন।

“আমরা
নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বলেছি, গাজীপুর সিটিতে নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করা
হোক এবং সেখানে কর্মরত এসপিকে প্রত্যাহার করা হোক।”

বিএনপির
জোট শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর ৪৫ জন নেতা-কর্মী গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে এসপি হারুনের
পক্ষপাত কাজ করেছে বলে দাবি করেন খন্দকার মোশাররফ।

“আমাদের
প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় ২৭ এপ্রিল দিনে-দুপুরে জামায়াতের গাজীপুর মহানগর আমির
এসএম সানাউল্লাহকে ৪৫জন কর্মীসহ গ্রেপ্তার করেছে। আমাদের ২০ দলীয় নেতা-কর্মীরা যদি
স্বচ্ছন্দে- নির্ভয়ে প্রচার-প্রচারণা করতে না পারে, তবে আমরা কীভাবে আশা করব এ
নির্বাচনী এলাকায় ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের ইচ্ছামতো ভোট দিতে পারবে।”

তিনি
বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণাকালে আমাদের কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। বাড়িতে পুলিশ
গিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের অযথা হয়রানি করছে। 
পুলিশ প্রশাসন এখন থেকেই আমাদের নেতা-কর্মীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে একটা
কৌশল অবলম্বন করছে।”

পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ

পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ

এই
নির্বাচনে ভোট কারচুপির শঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে
তাদের নিরপেক্ষতা প্রমাণের আহ্বান জানান বিএনপি নেতা।

তিনি
বলেন, “নির্বাচন কমিশন স্বাধীন হলেও নির্বাচনটা পরিচালনা করেন প্রশাসনের
ব্যক্তিরা। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ না হয় এবং নির্বাচন কমিশন যদি প্রশাসনকে
নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সরকার যদি নিয়ন্ত্রণ না করে তাহলে সেখানে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ
নির্বাচন সম্ভব নয়।”

সংবাদ
সম্মেলনে খন্দকার মোশাররফের সঙ্গে ছিলেন ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী মো. হাসান
উদ্দিন সরকার, জেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক কাজী
সাইয়েদুল আলম বাবুল, মেয়র প্রার্থীর মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী মো. মাজহারুল
আলম প্রমুখ।

হাসান
সরকারের পক্ষে প্রচারে বর্তমান মেয়র বিএনপি নেতা এম এ মান্নানের না নামার
ব্যাখ্যাও দেন সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ।

তিনি
বলেন, “মেয়র পদে থাকা অবস্থায় তিনি সিটির নির্বাচনী কাজে যোগ দিতে পারবেন না, করলে
আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে।”

স্থানীয়
সরকারের এই নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়ার বিষয়ে খন্দকার মোশাররফ বলেন, “আমাদের
ভবিষ্যতের আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।

“আমাদের
নেত্রীর মুক্তি, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা, সংসদ ভেঙে সামরিক বাহিনীকে
নির্বাচনকালীন নির্দিষ্ট সময় মোতায়েনের দাবিগুলো আদায় করে আমরা একাদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে যেতে চাই। তার আগে আমাদের নেত্রীর মুক্তি চাই।”

রুহুল কবির রিজভী

রুহুল কবির রিজভী

গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে
প্রতিনিয়ত ক্ষমতাসীনরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, “দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন। দুই সিটিতেই আওয়ামী
লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কালো টাকার ছড়ানো ও  তাদের প্রতিনিয়ত আচরণবিধি
লঙ্ঘনের অভিযোগ ইসিতে জমা দিলেও নির্বাচন কমিশন অন্ধের ভূমিকা পালন করছে।”

বৃহস্পতিবার গাজীপুরের মৌচাকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক
মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল সাহেবের সভাপতিত্বে এক সভায় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক,
আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে নির্বাচনী
আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন বলে দাবি করেন রিজভী।

Loading...
You might also like