Business is booming.

ভুয়া রিভিউ কেনাবেচা হচ্ছে অনলাইনে

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

ইন্টারনেটে প্রকাশ্যেই ভুয়া প্রশংসামূলক রিভিউ বিক্রি হচ্ছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিবিসি-ফাইভের অনুসন্ধানে দেখা গেছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান রিভিউ ওয়েবসাইট ‘ট্রাস্ট পাইলট’-এ কোনো ব্যবসা সম্পর্কে ভুয়া পাঁচ তারকা দেয়া রিভিউ বা মন্তব্য কেনা সম্ভব।

উল্লেখ্য, ট্রাস্ট পাইলট ওয়েবসাইটে যেকেনো বৈধ অনলাইন বিজনেস সাইটকে বিনামূল্যে তালিকাভুক্ত করে এটির সম্পর্কে মন্তব্য দেয়ার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু ট্রাস্ট পাইলটকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করলে তারা বিজনেস সাইট সম্পর্কে বাড়তি প্রচারণা চালায়।

বিবিসির অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, অ্যামাজনের মতো বিখ্যাত অনলাইন শপিং সাইটে কিছু পণ্যের রিভিউ বা মন্তব্য দেয়ার বিনিময়ে সেটির সম্পূর্ণ মূল্য ক্রেতাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়, অর্থাৎ ক্রেতা বিনামূল্যে পণ্যটি পান।

ট্রাস্ট পাইলট ও অ্যামাজন এই দুটি সাইটই বিবিসিকে জানিয়েছে তারা ভুয়া রিভিউ বরদাস্ত করে না।

অনলাইন রিভিউ সাইটের জনপ্রিয়তার কারনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও তাদের ক্রেতারা ক্রমেই এগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ব্রিটিশ সরকারের কম্পিটিশন অ্যান্ড মার্কেটিং অথরিটির হিসাব মতে এসব রিভিউয়ের ফলে ব্রিটেনের ক্রেতারা প্রতি বছর ২৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের পণ্য করে প্রভাবিত হন।

কয়েকটি রিভিউ সাইটে উপরের দিকে থাকা ইয়র্কশায়ার ফিশারিজের মালিক মারিয়া মেনেলো বলেন, রিভিউ সিস্টেম প্রথাগত বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার জায়গা নিয়েছে।

‘এখান থেকে প্রচুর ক্রেতা পাওয়া যায়। এটা সত্যিই কাজ করে। আমরা কোনো বিজ্ঞাপন দিই না,’ বলেন মিসেস মেনেলো।

একটি জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের তিন-চতুর্থাংশ অনলাইনে রিভিউ দেখে কেনাবেচা করেন, এবং তাদের প্রায় অর্ধেকই মনে করেন তারা বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভুয়া রিভিউ দেখেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকরা মনে করেন অ্যামাজনের মত আন্তর্জাতিক সাইটে বিভিন্ন পণ্যের রিভিউয়ের অর্ধেকই ভুয়া।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিভিউমেটা অনলাইন রিভিউ বিশ্লেষণ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার টমি নুনান বিবিসিকে বলেন, ‘বিক্রেতারা প্রথাগত সিস্টেম বা ব্যবস্থাকে নিজের সুবিধামত ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। আপনি যদি সস্তা কোনও পণ্য বিক্রি করেন, তাহলে এটি র‍্যাঙ্কিংয়ের উপর দিকে থাকলে এটি দারুণ বিক্রি হবে।’

অ্যামাজন ২০১৬ সালে পণ্য সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য দেয়ার বিনিময়ে পণ্যের মূল্য ফেরত দেয়া বন্ধে উদ্যোগ নেয়।

এর ফলে ভুয়া রিভিউয়ের ব্যবস্থাটি আরও গভীরে চলে যায় বলে মন্তব্য করেন নুনান। এখন ভুয়া রিভিউ সংগ্রহের জন্য ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ খোলা হচ্ছে। এসব গ্রুপে অ্যামাজনের সম্ভাব্য ক্রেতাদের পণ্যের মূল্য সম্পূর্ণ ফেরত দেয়ার বদলে এটি সম্পর্কে রিভিউ লিখতে উৎসাহ দেয়া হয়।

বিবিসি-ফাইভ এমন একটি ফেসবুক গ্রুপে যোগ দেয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে ভুয়া রিভিউ লেখার অফার পায়। অ্যামাজনে প্রশংসামূলক মন্তব্য দেয়ার বিনিময়ে ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদককে পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য ফিরিয়ে দায়ের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।

 

 

 

 

 

-পরিবর্তন

Loading...
You might also like